নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও তদারকির ঘাটতির অভিযোগ ৪২ লাখ টাকার ব্রিজ হস্তান্তরের আগেই ধসে হেলে পড়েছে, চরম ঝুঁকিতে জনসাধারণ
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও তদারকির ঘাটতির অভিযোগ ৪২ লাখ টাকার ব্রিজ হস্তান্তরের আগেই ধসে হেলে পড়েছে, চরম ঝুঁকিতে জনসাধারণ
ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই একটি ডেক-স্ল্যাব ব্রিজ ধসে হেলে পড়েছে। এতে স্থানীয় জনসাধারণের চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের সাংগর-গোপালপুর সংযোগ সড়কে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়ার বাড়ির সামনে নির্মিত ব্রিজটিতে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩.৭ মিটার প্রস্থের এই ব্রিজটির কাজ করছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শান্ত এন্টারপ্রাইজ। তবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদারের নাম প্রকাশ না করায় রহস্য তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজটির একাংশ ভয়াবহভাবে ডেবে গিয়ে পুরো কাঠামো একদিকে হেলে পড়েছে। ফলে এটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগে সেখানে একটি পাটাতন ব্রিজ ছিল, যার ওপর দিয়ে তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করতেন। এলাকাবাসী আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুর রশিদ, সৈকত সিকদার, মারুফ হোসেন, মোনাসেফ মোল্লা ও এনায়েত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নতুন ব্রিজ নির্মাণের শুরু থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত বছরের নভেম্বর মাসে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়।
তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং তদারকির অভাবের কারণে ঢালাইয়ের সময়ই ব্রিজের একাংশ ডেবে যায়। পরে তা ভেঙে পুনর্নির্মাণ করা হলেও কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আবারও একই অবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে পুরো প্রকল্পের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রিজটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করে না; কেবল বাইসাইকেল ও অটোরিকশা চলাচল করে। তবুও এমন নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমানে তারা ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দায়সারা ও নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এমনকি ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. নুরুল আমিন খান সুরুজ পলাতক থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানান, ব্রিজটি এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স